admin ২৬ অক্টোবর ২০২৬ , ১২:৫৭ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ

ষড়ঋতুর বাংলাদেশে এখন হেমন্তকাল। এ ঋতুতে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে ছাতিম ফুলের তীব্র অথচ মিষ্টি ঘ্রাণ। গাছের ডালে ডালে ফোটে অসংখ্য ফুল। দূর থেকেই এর গন্ধ জানান দেয়, প্রকৃতিতে এসেছে ছাতিম ফুলের মৌসুম। বাংলা সাহিত্য, গান ও কবিতায় ছাতিম ফুল স্মৃতি, নিঃসঙ্গতা ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে ছাতিম একটি পরিচিত নাম। অনেকের কাছে এটি হেমন্তের দূত।

কথিত আছে, শান্তিনিকেতনে ছাতিমগাছের নিচে বসে নিয়মিত লেখালেখি ও পাঠদান করতেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ছাতিমপাতা উপহার দেওয়ার ঐতিহ্যও রয়েছে সেখানে।
হেমন্তের এই আবহে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে কালিঘাট সড়কের একটি ছাতিমগাছে ফুটেছে ফুল। ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র মিষ্টি ঘ্রাণ। সন্ধ্যা থেকে রাতের দিকে ফুলের সুবাস আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রাতে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারীরা ছাতিম ফুলের ঘ্রাণে মুগ্ধ হচ্ছেন।
ছাতিমের বৈজ্ঞানিক নাম Alstonia scholaris। এটি অ্যাপোসাইনেসি পরিবারের চিরসবুজ ও বহুবর্ষজীবী বৃক্ষ। সংস্কৃত ভাষায় একে সপ্তপর্ণী বা যোজনগন্ধা বলা হয়। এর পাতাগুলো সাধারণত শাখার আগায় চক্রাকারে সাজানো থাকে। ছাতিম পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বৃক্ষ।
একটি ছাতিমগাছ প্রায় ৪০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। গাছের শাখার আগায় থোকায় থোকায় ফোটে ছোট ছোট সবুজাভ সাদা ফুল। ফুলের তীব্র সুগন্ধই ছাতিমকে অন্য গাছের তুলনায় আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
ছাতিম গাছের বিভিন্ন অংশ ঐতিহ্যগতভাবে ভেষজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর কষ ও বাকল লোকজ চিকিৎসায় ক্ষত, আমাশয়, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, জ্বর ও চর্মরোগের চিকিৎসায় ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। তবে এসব ব্যবহারের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সব ক্ষেত্রে আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রতিষ্ঠিত নয়।
ছাতিমের কাঠ দিয়ে সাধারণ মানের আসবাব, প্যাকিং বাক্স, চায়ের বাক্স, পেনসিল ও দিয়াশলাইয়ের কাঠি তৈরি করা হয়। অতীতে শিশুদের লেখার জন্য ছাতিমের কাঠ দিয়ে তক্তাও বানানো হতো।
হেমন্তের সন্ধ্যায় ছাতিম ফুলের সুবাস তাই শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়ায় না, অনেকের মনে জাগিয়ে তোলে স্মৃতি ও নস্টালজিয়া। শ্রীমঙ্গলের কালিঘাট সড়কের ছাতিমগাছটিও এখন পথচারীদের জন্য হয়ে উঠেছে প্রকৃতির এক মুগ্ধকর আয়োজন।











